Life Science PDF Part 9: BanglaMCQ.org তে আপনাকে স্বাগত। এই সাইটে আমরা জীবন বিজ্ঞান বিষয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ের প্রশ্ন সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আজকের বিষয় হল প্রাণীদের রেচন। আমরা আগের Life Science PDF Part 8 অধ্যায়ে উদ্ভিদের হরমোন সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আজকে আলোচনা করবো প্রাণীদের রেচন Life Science PDF Part 9 এ।
বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায়—যেমন WBP, SSC, Railway, WBPSC, Nursing, ANM/GNM, Food SI, KP এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায়—”প্রাণীদের রেচন” সম্পর্কিত প্রশ্ন প্রায়ই দেখা যায়।। শুধু মাত্র সরকারি চাকরির প্রস্তুতির জন্য নয়, সমস্ত শ্রেনীর ছাত্র ছাত্রীরাও এই পোস্টের মাধ্যমে প্রাণীদের রেচন প্রক্রিয়ার প্রশ্ন সম্পর্কে জানতে পারবে। তাহলে চলো শুরু করা যাক…..

Life Science PDF Part 9
১. প্রাণীর রেচন কাকে বলে?
উত্তর: জীবদেহে বিপাকক্রিয়ায় উৎপন্ন ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে অপসারণের প্রক্রিয়াকে প্রাণীর রেচন বলে।
২. প্রাণীর রেচন কেন প্রয়োজন?
উত্তর: দেহে উৎপন্ন বিষাক্ত বিপাকীয় বর্জ্য অপসারণ এবং দেহের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য রেচন প্রয়োজন।
৩. প্রাণীর প্রধান রেচন পদার্থ কী কী?
উত্তর: প্রাণীর প্রধান রেচন পদার্থ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, অতিরিক্ত জল ও খনিজ লবণ।
৪. প্রাণীর প্রধান রেচন অঙ্গ কোনটি?
উত্তর: মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো বৃক্ক বা কিডনি।
৫. মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ কোনটি?
উত্তর: মানুষের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো একজোড়া বৃক্ক বা কিডনি।
৬. মানুষের রেচন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গগুলি কী কী?
উত্তর: মানুষের রেচন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হলো দুটি বৃক্ক, দুটি ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি ইউরেথ্রা।
৭. বৃক্কের প্রধান কাজ কী?
উত্তর: বৃক্ক রক্ত থেকে বিপাকীয় বর্জ্য ও অতিরিক্ত জল অপসারণ করে মূত্র তৈরি করে।
৮. মানুষের শরীরে কয়টি বৃক্ক থাকে?
উত্তর: মানুষের শরীরে সাধারণত দুটি বৃক্ক থাকে।
৯. বৃক্ক কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: বৃক্ক উদরগহ্বরের পশ্চাৎদিকে মেরুদণ্ডের দুপাশে অবস্থিত।
১০. বৃক্কের আকৃতি কেমন?
উত্তর: মানুষের বৃক্ক দেখতে অনেকটা শিমের বীজের মতো।
১১. বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একক কী?
উত্তর: বৃক্কের গঠনগত ও কার্যগত একক হলো নেফ্রন।
১২. একটি সুস্থ মানুষের প্রতিটি বৃক্কে প্রায় কতটি নেফ্রন থাকে?
উত্তর: প্রতিটি মানুষের বৃক্কে প্রায় দশ লক্ষ বা তার কাছাকাছি নেফ্রন থাকতে পারে।
১৩. নেফ্রন কী?
উত্তর: নেফ্রন হলো বৃক্কের ক্ষুদ্র গঠনগত ও কার্যগত একক, যেখানে মূত্র গঠনের প্রধান প্রক্রিয়াগুলি সম্পন্ন হয়।
১৪. নেফ্রনের প্রধান অংশ কী কী?
উত্তর: নেফ্রনের প্রধান অংশ হলো বোম্যানের ক্যাপসুল, গ্লোমেরুলাস, প্রক্সিমাল কনভলিউটেড টিউবিউল, হেনলের লুপ, ডিস্টাল কনভলিউটেড টিউবিউল ও সংগ্রাহী নালি।
১৫. গ্লোমেরুলাস কী?
উত্তর: গ্লোমেরুলাস হলো বোম্যানের ক্যাপসুলের মধ্যে অবস্থিত কৈশিক জালিকা, যেখানে রক্তের পরিস্রবণ ঘটে।
১৬. বোম্যানের ক্যাপসুল কী?
উত্তর: বোম্যানের ক্যাপসুল হলো নেফ্রনের শুরুতে অবস্থিত কাপের মতো গঠন, যা গ্লোমেরুলাসকে ঘিরে রাখে।
১৭. গ্লোমেরুলাস ও বোম্যানের ক্যাপসুল মিলে কী গঠন করে?
উত্তর: গ্লোমেরুলাস ও বোম্যানের ক্যাপসুল মিলে ম্যালপিঘিয়ান বডি বা রেনাল কর্পাসল গঠন করে।
১৮. মূত্র গঠনের প্রথম ধাপ কী?
উত্তর: মূত্র গঠনের প্রথম ধাপ হলো গ্লোমেরুলার পরিস্রবণ বা আল্ট্রাফিল্ট্রেশন।
১৯. গ্লোমেরুলার পরিস্রবণ কী?
উত্তর: গ্লোমেরুলাসের কৈশিকনালি থেকে চাপের কারণে জল ও ক্ষুদ্র দ্রবীভূত পদার্থ বোম্যানের ক্যাপসুলে ছেঁকে যাওয়াকে গ্লোমেরুলার পরিস্রবণ বলে।
২০. গ্লোমেরুলার পরিস্রুত তরলকে কী বলা হয়?
উত্তর: গ্লোমেরুলার পরিস্রুত তরলকে গ্লোমেরুলার ফিলট্রেট বা প্রাথমিক মূত্র বলা হয়।
২১. মূত্র গঠনের দ্বিতীয় প্রধান ধাপ কী?
উত্তর: মূত্র গঠনের দ্বিতীয় প্রধান ধাপ হলো নেফ্রন নালিকায় নির্বাচিত পুনঃশোষণ।
২২. পুনঃশোষণ কী?
উত্তর: নেফ্রন নালিকা থেকে প্রয়োজনীয় জল ও দ্রবীভূত পদার্থ পুনরায় রক্তে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে পুনঃশোষণ বলে।
২৩. মূত্র গঠনের তৃতীয় ধাপ কী?
উত্তর: মূত্র গঠনের তৃতীয় ধাপ হলো নেফ্রন নালিকায় বিভিন্ন পদার্থের নলিকাগত নিঃসরণ।
২৪. নলিকাগত নিঃসরণ কী?
উত্তর: রক্ত থেকে কিছু পদার্থ নেফ্রন নালিকায় সক্রিয়ভাবে নিঃসৃত হওয়ার প্রক্রিয়াকে নলিকাগত নিঃসরণ বলে।
২৫. ইউরেটার কী?
উত্তর: বৃক্ক থেকে মূত্রথলিতে মূত্র বহনকারী সরু নালিকে ইউরেটার বলে।
২৬. মানুষের দেহে কয়টি ইউরেটার থাকে?
উত্তর: মানুষের দেহে দুটি ইউরেটার থাকে।
২৭. মূত্রথলির কাজ কী?
উত্তর: মূত্রথলি কিছু সময়ের জন্য মূত্র সঞ্চয় করে রাখে।
২৮. ইউরেথ্রা কী?
উত্তর: মূত্রথলি থেকে শরীরের বাইরে মূত্র বের করে দেওয়ার নালিকে ইউরেথ্রা বলে।
২৯. মূত্র কী?
উত্তর: বৃক্কে উৎপন্ন এবং দেহ থেকে অপসারিত জল, ইউরিয়া, লবণ ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থসমৃদ্ধ তরলকে মূত্র বলে।
৩০. মানুষের মূত্রের প্রধান নাইট্রোজেনীয় বর্জ্য কী?
উত্তর: মানুষের মূত্রের প্রধান নাইট্রোজেনীয় বর্জ্য হলো ইউরিয়া।
৩১. ইউরিয়া কোথায় তৈরি হয়?
উত্তর: যকৃতে অ্যামোনিয়া থেকে ইউরিয়া তৈরি হয়।
৩২. ইউরিয়া কীভাবে দেহ থেকে বের হয়?
উত্তর: ইউরিয়া প্রধানত বৃক্কের মাধ্যমে মূত্রের সঙ্গে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়।
৩৩. অ্যামোনিয়া কী?
উত্তর: অ্যামোনিয়া একটি অত্যন্ত বিষাক্ত নাইট্রোজেনীয় রেচন পদার্থ।
৩৪. কোন ধরনের প্রাণী প্রধানত অ্যামোনিয়া ত্যাগ করে?
উত্তর: অধিকাংশ জলজ প্রাণী প্রধানত অ্যামোনিয়া রেচন করে।
৩৫. অ্যামোনিয়োটেলিক প্রাণী কাদের বলে?
উত্তর: যে প্রাণীরা প্রধান নাইট্রোজেনীয় রেচন পদার্থ হিসেবে অ্যামোনিয়া ত্যাগ করে তাদের অ্যামোনিয়োটেলিক প্রাণী বলে।
৩৬. অ্যামোনিয়োটেলিক প্রাণীর উদাহরণ কী?
উত্তর: অধিকাংশ অস্থিময় মাছ, ব্যাঙের লার্ভা ও অনেক জলজ অমেরুদণ্ডী প্রাণী অ্যামোনিয়োটেলিক।
৩৭. ইউরিয়া কী?
উত্তর: ইউরিয়া হলো অপেক্ষাকৃত কম বিষাক্ত একটি নাইট্রোজেনীয় রেচন পদার্থ।
৩৮. ইউরিওটেলিক প্রাণী কাদের বলে?
উত্তর: যে প্রাণীরা প্রধান নাইট্রোজেনীয় রেচন পদার্থ হিসেবে ইউরিয়া ত্যাগ করে তাদের ইউরিওটেলিক প্রাণী বলে।
৩৯. ইউরিওটেলিক প্রাণীর উদাহরণ কী?
উত্তর: মানুষ, অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী, প্রাপ্তবয়স্ক উভচর এবং কিছু মাছ ইউরিওটেলিক প্রাণী।
৪০. ইউরিক অ্যাসিড কী?
উত্তর: ইউরিক অ্যাসিড হলো কম দ্রবণীয় ও অপেক্ষাকৃত কম বিষাক্ত একটি নাইট্রোজেনীয় রেচন পদার্থ।
৪১. ইউরিকোটেলিক প্রাণী কাদের বলে?
উত্তর: যে প্রাণীরা প্রধান নাইট্রোজেনীয় রেচন পদার্থ হিসেবে ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগ করে তাদের ইউরিকোটেলিক প্রাণী বলে।
৪২. ইউরিকোটেলিক প্রাণীর উদাহরণ কী?
উত্তর: পাখি, সরীসৃপ এবং অধিকাংশ কীটপতঙ্গ ইউরিকোটেলিক প্রাণী।
৪৩. নাইট্রোজেনীয় রেচন পদার্থ প্রধানত কোথা থেকে আসে?
উত্তর: প্রোটিন ও নিউক্লিক অ্যাসিডের বিপাক থেকে নাইট্রোজেনীয় রেচন পদার্থ উৎপন্ন হয়।
৪৪. অ্যামোনিয়া কেন বেশি বিষাক্ত?
উত্তর: অ্যামোনিয়া অত্যন্ত বিষাক্ত এবং জলীয় মাধ্যমে বেশি দ্রবণীয় হওয়ায় দ্রুত দেহের কোষের ক্ষতি করতে পারে।
৪৫. ইউরিয়া অ্যামোনিয়ার তুলনায় কম বিষাক্ত কেন?
উত্তর: ইউরিয়া অ্যামোনিয়ার তুলনায় কম বিষাক্ত এবং দেহে তুলনামূলকভাবে নিরাপদে পরিবাহিত হতে পারে।
৪৬. ইউরিক অ্যাসিডের একটি সুবিধা কী?
উত্তর: ইউরিক অ্যাসিড কম দ্রবণীয় হওয়ায় খুব অল্প জল দিয়ে দেহ থেকে অপসারণ করা যায়।
৪৭. পাখি ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগ করে কেন?
উত্তর: পাখি জল সংরক্ষণ এবং ডিমের ভিতরে ভ্রূণের নিরাপদ বিকাশের সুবিধার জন্য প্রধানত ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগ করে।
৪৮. কীটপতঙ্গের প্রধান রেচন অঙ্গ কী?
উত্তর: কীটপতঙ্গের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো মালপিঘিয়ান নালিকা।
৪৯. মালপিঘিয়ান নালিকা কী?
উত্তর: মালপিঘিয়ান নালিকা হলো কীটপতঙ্গের রেচন অঙ্গ, যা হিমোলিম্ফ থেকে বর্জ্য পদার্থ সংগ্রহ করে অন্ত্রে পৌঁছে দেয়।
৫০. মালপিঘিয়ান নালিকার প্রধান কাজ কী?
উত্তর: মালপিঘিয়ান নালিকা কীটপতঙ্গের দেহ থেকে প্রধানত নাইট্রোজেনীয় বর্জ্য ও অতিরিক্ত লবণ অপসারণে সাহায্য করে।
৫১. কেঁচোর প্রধান রেচন অঙ্গ কী?
উত্তর: কেঁচোর প্রধান রেচন অঙ্গ হলো নেফ্রিডিয়া।
৫২. নেফ্রিডিয়া কী?
উত্তর: নেফ্রিডিয়া হলো কেঁচোসহ বিভিন্ন অমেরুদণ্ডী প্রাণীর রেচন অঙ্গ, যা দেহতরল থেকে বর্জ্য অপসারণ করে।
৫৩. প্ল্যানেরিয়ার রেচন অঙ্গ কী?
উত্তর: প্ল্যানেরিয়ার রেচন অঙ্গ হলো ফ্লেম সেল বা শিখা কোষযুক্ত প্রোটোনেফ্রিডিয়া।
৫৪. ফ্লেম সেল কী?
উত্তর: ফ্লেম সেল হলো শিখার মতো সিলিয়া যুক্ত বিশেষ রেচন কোষ, যা দেহতরল থেকে বর্জ্য অপসারণে সাহায্য করে।
৫৫. প্ল্যানেরিয়ার রেচনতন্ত্রকে কী বলা হয়?
উত্তর: প্ল্যানেরিয়ার রেচনতন্ত্রকে প্রোটোনেফ্রিডিয়াম বলা হয়।
৫৬. মলাস্কদের রেচন অঙ্গ কী?
উত্তর: অধিকাংশ মলাস্কের রেচন অঙ্গ হলো নেফ্রিডিয়া বা কিডনি সদৃশ অঙ্গ।
৫৭. কাঁকড়া ও চিংড়ির প্রধান রেচন অঙ্গ কী?
উত্তর: কাঁকড়া ও চিংড়ির প্রধান রেচন অঙ্গ হলো সবুজ গ্রন্থি বা অ্যান্টেনাল গ্রন্থি।
৫৮. সবুজ গ্রন্থি কোথায় অবস্থিত?
উত্তর: সবুজ গ্রন্থি ক্রাস্টেশিয়ানদের মাথার অঞ্চলে অ্যান্টেনার গোড়ার কাছে অবস্থিত।
৫৯. মাকড়সার প্রধান রেচন অঙ্গ কী?
উত্তর: মাকড়সার প্রধান রেচন অঙ্গ হলো মালপিঘিয়ান নালিকা এবং কিছু প্রজাতিতে কক্সাল গ্রন্থি।
৬০. কক্সাল গ্রন্থি কী?
উত্তর: কক্সাল গ্রন্থি হলো কিছু আর্থ্রোপোডের রেচন অঙ্গ, যা দেহের বর্জ্য পদার্থ অপসারণে সাহায্য করে।
৬১. কিডনির মাধ্যমে কোন বর্জ্য অপসারিত হয়?
উত্তর: কিডনি প্রধানত ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিডের কিছু অংশ, ক্রিয়েটিনিন, অতিরিক্ত জল ও লবণ অপসারণ করে।
৬২. ক্রিয়েটিনিন কী?
উত্তর: ক্রিয়েটিনিন হলো পেশির বিপাক থেকে উৎপন্ন একটি নাইট্রোজেনযুক্ত বর্জ্য পদার্থ।
৬৩. মানুষের রেচনে ফুসফুসের ভূমিকা কী?
উত্তর: ফুসফুস শ্বসনের ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কিছু জলীয়বাষ্প দেহ থেকে বের করে।
৬৪. মানুষের রেচনে ত্বকের ভূমিকা কী?
উত্তর: ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত জল, লবণ ও সামান্য ইউরিয়া অপসারণ করে।
৬৫. মানুষের রেচনে যকৃতের ভূমিকা কী?
উত্তর: যকৃত অ্যামোনিয়াকে ইউরিয়ায় রূপান্তর করে এবং বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে।
৬৬. ঘাম কী?
উত্তর: ঘাম হলো ঘর্মগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত জল, লবণ ও সামান্য অন্যান্য পদার্থযুক্ত তরল।
৬৭. ঘামের প্রধান উপাদান কী?
উত্তর: ঘামের প্রধান উপাদান হলো জল এবং এতে সোডিয়াম ক্লোরাইডসহ বিভিন্ন লবণ থাকে।
৬৮. ত্বককে রেচন অঙ্গ বলা হয় কেন?
উত্তর: ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি ঘামের মাধ্যমে অতিরিক্ত জল, লবণ ও সামান্য ইউরিয়া অপসারণ করে বলে ত্বককে রেচন অঙ্গ বলা হয়।
৬৯. ফুসফুসকে রেচন অঙ্গ বলা হয় কেন?
উত্তর: ফুসফুস কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয়বাষ্প দেহ থেকে বের করে বলে তাকে রেচন অঙ্গ বলা হয়।
৭০. মূত্রে প্রধানত কী কী থাকে?
উত্তর: মূত্রে প্রধানত জল, ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ক্রিয়েটিনিন এবং বিভিন্ন খনিজ লবণ থাকে।
৭১. স্বাভাবিক মূত্রে কি গ্লুকোজ থাকে?
উত্তর: স্বাভাবিক অবস্থায় মূত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্লুকোজ থাকে না।
৭২. স্বাভাবিক মূত্রে কি প্রোটিন থাকে?
উত্তর: স্বাভাবিক অবস্থায় মূত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রোটিন থাকে না।
৭৩. মূত্রের হলুদ রঙের জন্য কোন পদার্থ দায়ী?
উত্তর: ইউরোক্রোম নামক রঞ্জক মূত্রের হলুদ রঙের জন্য প্রধানত দায়ী।
৭৪. বৃক্ক কীভাবে দেহের জলীয় ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর: বৃক্ক প্রয়োজন অনুযায়ী জল পুনঃশোষণ ও মূত্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত জল অপসারণ করে জলীয় ভারসাম্য বজায় রাখে।
৭৫. বৃক্ক কীভাবে লবণের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে?
উত্তর: বৃক্ক নেফ্রনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় লবণ পুনঃশোষণ এবং অতিরিক্ত লবণ মূত্রের সঙ্গে ত্যাগ করে।
৭৬. অসমোরেগুলেশন কী?
উত্তর: দেহের জল ও দ্রবীভূত লবণের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়াকে অসমোরেগুলেশন বলে।
৭৭. রেচন ও অসমোরেগুলেশনের মধ্যে সম্পর্ক কী?
উত্তর: রেচনের মাধ্যমে বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি বৃক্ক দেহের জল ও লবণের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে।
৭৮. ADH-এর পূর্ণরূপ কী?
উত্তর: ADH-এর পূর্ণরূপ হলো Antidiuretic Hormone বা অ্যান্টিডায়ুরেটিক হরমোন।
৭৯. ADH-এর প্রধান কাজ কী?
উত্তর: ADH বৃক্কের সংগ্রাহী নালিতে জলের পুনঃশোষণ বাড়িয়ে দেহে জল সংরক্ষণে সাহায্য করে।
৮০. ADH কমে গেলে মূত্রের পরিমাণ কী হয়?
উত্তর: ADH-এর মাত্রা কমে গেলে জলের পুনঃশোষণ কমে এবং সাধারণত মূত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
৮১. রেনিন কী?
উত্তর: রেনিন হলো বৃক্ক থেকে নিঃসৃত একটি এনজাইম, যা রক্তচাপ ও জল-লবণ ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
৮২. অ্যালডোস্টেরনের কাজ কী?
উত্তর: অ্যালডোস্টেরন বৃক্কে সোডিয়াম পুনঃশোষণ বৃদ্ধি এবং পটাশিয়াম নিঃসরণে সাহায্য করে।
৮৩. মূত্র কীভাবে বৃক্ক থেকে মূত্রথলিতে যায়?
উত্তর: বৃক্কে তৈরি মূত্র ইউরেটারের মাধ্যমে মূত্রথলিতে পৌঁছায়।
৮৪. মূত্র কীভাবে দেহের বাইরে বের হয়?
উত্তর: মূত্রথলি থেকে ইউরেথ্রার মাধ্যমে মূত্র দেহের বাইরে বের হয়।
৮৫. মূত্রত্যাগকে কী বলা হয়?
উত্তর: মূত্রথলি থেকে ইউরেথ্রার মাধ্যমে মূত্র বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে মূত্রত্যাগ বা মিক্টুরিশন বলে।
৮৬. বৃক্কে রক্ত পৌঁছায় কোন ধমনির মাধ্যমে?
উত্তর: রেনাল ধমনির মাধ্যমে বৃক্কে রক্ত পৌঁছায়।
৮৭. বৃক্ক থেকে রক্ত বের হয় কোন শিরার মাধ্যমে?
উত্তর: রেনাল শিরার মাধ্যমে বৃক্ক থেকে পরিশোধিত রক্ত বের হয়।
৮৮. রেনাল ধমনি কী?
উত্তর: রেনাল ধমনি হলো যে ধমনি উদরীয় মহাধমনি থেকে বৃক্কে রক্ত নিয়ে যায়।
৮৯. রেনাল শিরা কী?
উত্তর: রেনাল শিরা হলো যে শিরা বৃক্ক থেকে রক্ত নিয়ে নিম্ন মহাশিরায় পৌঁছে দেয়।
৯০. গ্লোমেরুলাসে রক্ত প্রবেশ করে কোন ধমনিকার মাধ্যমে?
উত্তর: অ্যাফারেন্ট আর্টেরিওলের মাধ্যমে গ্লোমেরুলাসে রক্ত প্রবেশ করে।
৯১. গ্লোমেরুলাস থেকে রক্ত বের হয় কোন ধমনিকার মাধ্যমে?
উত্তর: ইফারেন্ট আর্টেরিওলের মাধ্যমে গ্লোমেরুলাস থেকে রক্ত বের হয়।
৯২. অ্যাফারেন্ট ও ইফারেন্ট আর্টেরিওলের মধ্যে কোনটির ব্যাস বেশি?
উত্তর: সাধারণত অ্যাফারেন্ট আর্টেরিওলের ব্যাস ইফারেন্ট আর্টেরিওলের তুলনায় বেশি হয়।
৯৩. গ্লোমেরুলারে উচ্চ রক্তচাপের গুরুত্ব কী?
উত্তর: গ্লোমেরুলারে তুলনামূলক উচ্চ রক্তচাপ রক্তের পরিস্রবণে সাহায্য করে।
৯৪. মূত্র গঠনের মূল তিনটি ধাপ কী?
উত্তর: মূত্র গঠনের মূল তিনটি ধাপ হলো গ্লোমেরুলার পরিস্রবণ, নির্বাচিত পুনঃশোষণ এবং নলিকাগত নিঃসরণ।
৯৫. নেফ্রনের কোন অংশে প্রধান পুনঃশোষণ ঘটে?
উত্তর: নেফ্রনের প্রক্সিমাল কনভলিউটেড টিউবিউলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পুনঃশোষণ ঘটে।
৯৬. হেনলের লুপের প্রধান ভূমিকা কী?
উত্তর: হেনলের লুপ বৃক্কে ঘন মূত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অসমোটিক ঘনত্বের পার্থক্য সৃষ্টি ও বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৯৭. সংগ্রাহী নালির কাজ কী?
উত্তর: সংগ্রাহী নালি নেফ্রন থেকে মূত্র সংগ্রহ করে এবং ADH-এর প্রভাবে জল পুনঃশোষণে সাহায্য করে।
৯৮. বৃক্কের মাধ্যমে রেচন দেহের কোন ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে?
উত্তর: বৃক্ক দেহের জল, লবণ, অম্ল-ক্ষার এবং বর্জ্য পদার্থের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৯৯. প্রাণীর রেচনের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: প্রাণীর রেচনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিপাকীয় বর্জ্য অপসারণ এবং দেহের অভ্যন্তরীণ পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা।
১০০. অ্যামোনিয়োটেলিক, ইউরিওটেলিক ও ইউরিকোটেলিক প্রাণীর মধ্যে মূল পার্থক্য কী?
উত্তর: অ্যামোনিয়োটেলিক প্রাণী অ্যামোনিয়া, ইউরিওটেলিক প্রাণী ইউরিয়া এবং ইউরিকোটেলিক প্রাণী প্রধানত ইউরিক অ্যাসিড রেচন করে।
বিভিন্ন প্রাণীর রেচন অঙ্গের নাম
| ক্রম | প্রাণীর নাম | রেচন অঙ্গের নাম |
| ১ | অ্যামিবা | সংকোচনশীল গহ্বর |
| ২ | প্যারামেসিয়াম | সংকোচনশীল গহ্বর |
| ৩ | প্ল্যানেরিয়া | প্রোটোনেফ্রিডিয়া / শিখা কোষ |
| ৪ | হাইড্রা | দেহপৃষ্ঠ |
| ৫ | স্পঞ্জ | দেহপৃষ্ঠ ও জলপ্রবাহ |
| ৬ | কেঁচো | নেফ্রিডিয়া |
| ৭ | জোঁক | নেফ্রিডিয়া |
| ৮ | শামুক | নেফ্রিডিয়া / কিডনি |
| ৯ | ঝিনুক | কিডনি |
| ১০ | অক্টোপাস | কিডনি |
| ১১ | চিংড়ি | সবুজ গ্রন্থি / অ্যান্টেনাল গ্রন্থি |
| ১২ | কাঁকড়া | সবুজ গ্রন্থি |
| ১৩ | লবস্টার | সবুজ গ্রন্থি |
| ১৪ | আরশোলা | মালপিঘিয়ান নালিকা |
| ১৫ | ঘাসফড়িং | মালপিঘিয়ান নালিকা |
| ১৬ | প্রজাপতি | মালপিঘিয়ান নালিকা |
| ১৭ | মশা | মালপিঘিয়ান নালিকা |
| ১৮ | মাছি | মালপিঘিয়ান নালিকা |
| ১৯ | মৌমাছি | মালপিঘিয়ান নালিকা |
| ২০ | মাকড়সা | মালপিঘিয়ান নালিকা ও কক্সাল গ্রন্থি |
| ২১ | বিছা | মালপিঘিয়ান নালিকা ও কক্সাল গ্রন্থি |
| ২২ | তারামাছ | ডিফিউজ সিস্টেম/দেহপৃষ্ঠ |
| ২৩ | ব্যাঙ | বৃক্ক ও ত্বক |
| ২৪ | কুনোব্যাঙ | বৃক্ক ও ত্বক |
| ২৫ | স্যালামান্ডার | বৃক্ক ও ত্বক |
| ২৬ | মাছ | বৃক্ক ও ফুলকা |
| ২৭ | রুই মাছ | বৃক্ক ও ফুলকা |
| ২৮ | কাতলা মাছ | বৃক্ক ও ফুলকা |
| ২৯ | হাঙর | বৃক্ক |
| ৩০ | কুমির | বৃক্ক |
| ৩১ | টিকটিকি | বৃক্ক |
| ৩২ | সাপ | বৃক্ক |
| ৩৩ | কচ্ছপ | বৃক্ক |
| ৩৪ | গিরগিটি | বৃক্ক |
| ৩৫ | পায়রা | বৃক্ক |
| ৩৬ | কবুতর | বৃক্ক |
| ৩৭ | কাক | বৃক্ক |
| ৩৮ | মুরগি | বৃক্ক |
| ৩৯ | হাঁস | বৃক্ক |
| ৪০ | ঈগল | বৃক্ক |
| ৪১ | চড়ুই | বৃক্ক |
| ৪২ | উটপাখি | বৃক্ক |
| ৪৩ | মানুষ | বৃক্ক |
| ৪৪ | গরু | বৃক্ক |
| ৪৫ | ছাগল | বৃক্ক |
| ৪৬ | ভেড়া | বৃক্ক |
| ৪৭ | ঘোড়া | বৃক্ক |
| ৪৮ | কুকুর | বৃক্ক |
| ৪৯ | বিড়াল | বৃক্ক |
| ৫০ | হাতি | বৃক্ক |
👉 সমস্ত রকম স্টাডি মেটেরিয়াল এর জন্য আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল এ যুক্ত হও ৷





